একাদশীর চাঁদ - সুজিত অধিকারী | Ekadoshir Chand

 একাদশীর চাঁদ

সুজিত অধিকারী


অন্ধকার গাঢ় অন্ধকার, একাদশীর চাঁদ

কাত হয়ে গেছে আকাশের কোনে তবুও 

দেখি এক নীলাভ আলো সে আলো অতি

উজ্জ্বল সেই আলো থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে

জীবনের এক একটা পাতা ,একটা হলদে

পাতায় কালো কালি দিয়ে লেখা আছে

শূন্য অন্য একটা কালো পাতায় সাদা 

রঙ দিয়ে আঁকা আছে একটা মানচিত্র

আর মানচিত্রের মাঝে একটা ক্ষুধার্ত পেট l


আমি আঁধারের যাত্রী একা একা হেঁটে 

চলি কাশ্মীর থেকে কন্যা কুমারী। 

বেলুচিস্তান হয়ে পাকিস্তানের তক্ষশীলায়

কিন্তু কোথাও পায়নি সেই উষ্ণতা। 

চৈত্রের দুপুর আর সাদা ভাতের গন্ধ

বিক্রি হয়ে গেছে রূপকথার গল্পে। 


মরুভূমির দহন জ্বালায় জ্বলে পুড়ে আর

একটা দোচালা ঘর বাঁধা আর হলো না......  

স্বপ্ন পুড়িয়ে এখন আমি যাযাবর - ভবঘুরে। 

যে আগুন আলো দেয় না অথচ পলে পলে

দগ্ধ করে জীবন,মুহূর্তের হাহাকার। 


দগ্ধ হওয়া জীবনের মর্মর বেদনা আজও 

কাঁদায় শেষ রাতে, তবুও সে বেদনা 

ঐশ্চর্য সমান.........

সেই মাতাল করা দৃষ্টির ঢেউ সব কিছু

এলোমেলো করে দেয় প্রতিনিয়ত। 

ভেতরের সত্বা জেগে ওঠে গভীর উৎকণ্ঠায়  

ভালোবাসা কুঁকড়ে মরে তীব্র বিস্ময়ে। 

বিশ্বাস নিঃশব্দে বিদায় নেয় পশ্চিমী

জানলায়........

আমি একা যাত্রী ভাঙা নৌকায়।

সাগরের ঢেউ গুনি বছর শেষের রাতে। 

মরুভূমির কান্না  আজও ভাসে উদাসী 

বাতাসে, স্মৃতি গুলো খেলা করে বিশ্বাসের

মোহনায় ........

শতাব্দীর কোলাহল ঘুম ভাঙায় নিরবতা 

ভেঙে ,স্বপ্নরা এখনও ঝড় তুলে

বেঁচে আছে জীবনের আঙিনায়। 

খেয়া চলে আপন মনে ,শুধু স্মৃতি গুলো 

তাড়া করে আশ্চর্য নিরবতায় ......

ঘুঘু ডাকা প্রহর কাটে দগ্ধ যন্ত্রণায়

দূরে বহু দূরে স্টিমারের সাইরেন সংকেত 

দেয়, "চিন্তায় - চেতনায় "তুমি একা .....

একাদশীর চাঁদ মিলিয়ে যায় পশ্চিমের

জানালায় ........