পণ্যা
সুজিত অধিকারী
আমি আর্য নয় অনার্য নয় আমি এক আদি
কালের কদর্য আদিবাসী কণ্যা।
আমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদেশি নয় দেশি
মহুলের খাঁটি গন্ধে ভরপুর .......।
বাঁকুড়া নয় পুরুলিয়া নয়,আমি "বেল পাহাড়ীর "
পাহাড় ঘেরা জঙ্গলে অনাদরে বাস করি কুঁড়ে ঘরে।
আমাদের কালো পাহাড়ের নীচে ঘন জঙ্গলের
মাঝ বরাবর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সভ্যতার বাস।
কত পরিব্রাজক আসে ইতিহাস লেখা হয় আবার
সময়ের বিবর্তনে চাপা পড়ে যায়........!
কত সাংবাদিক আসে সংবাদ লেখা হয় ঘটা
করে কাগজের প্রথম পাতায় কিন্তু সে খবর চাপা পড়ে
যায় পরের দিন "সমাজ বিরোধী" খুনের
পথ অবরোধে,আসলে সবই মায়া আর সেই
মায়ায় আমরা ভালোবেসে ফেলি সভ্যতাকে।
কত কুশিক্ষা আসে শিক্ষার বর্ম পরে , কালো
পাহাড়ের গায়ে রংচটা মানচিত্র এঁকে ঠেলে দেয়
সর্বনাশের আলোতে, সভ্যতার "টোপে" মাতাল
হয়ে হোঁচট খায় গোপন অভিসারের তপ্তশয্যায়।
আমাদের "নিধুবনে" কামিনী ফুলের গন্ধে
বাসন্তী হাওয়ায় সভ্যতার "পরিযায়ী " রঙিন
নেশায় কত "কবিতা "লেখে বাসন্তী রাতে ।
সেই কবিতা কোন দিন প্রকাশ পাই না
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে.........
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘোলা জলে স্নান সেরে
আমাদের ঠোঁটে শব্দহীন চুম্বনে এঁকে দিয়ে
যায় সভ্যতার নিদর্শন আর সেই নিদর্শন
অবজ্ঞায় বেঁচে থাকে ইতিহাসের পাতায়।
ক্ষণিকের আগুনে ক্ষণিকের আবেগে শুকিয়ে
নিই সভ্যতার "বিষমাখানো" ভালোবাসা ।
"ভূমধ্যসাগরীয় " কুয়াশা ঢাকা ঘন অরণ্যের
দুর্গম অঞ্চলের গুহামুখে হাজার হাজার শুক্রাণু
ডিম্বাণুর সহবাসে জন্ম নেয় "ব্যাসদেব " জন্ম নেয়
"কর্ন" জন্ম নেয় "যীশু" আর সেই যীশুর মৃত্যু হয়
রক্তাক্ত যন্ত্রণায়.......।
ভীরুতায় আচ্ছন্ন হয়ে গভীর "নিম্নচাপ" শক্তি হারিয়ে
বিলীন হয়ে ঝরে পড়ে বর্ধিত সমাজের
তলদেশে ........
সেখানে অবহেলার উদ্ধত হাসি আর ঝলসানো
দৃষ্টি শুষে নেয় আমাদের খাঁটি মহুলের
খাঁটি নেশা উতপ্ত নি:শ্বাসে .........।
অসহ্য ক্ষিদে আর আকণ্ঠ পিপাসা নিয়ে
ঘুরি ফিরি "আসমুদ্রহিমাচল " কোথাও জল
নেই কোথাও আলো নেই শুধুই অন্ধকার
আর বিষাক্ত বাতাসে অতৃপ্তির রঙে আঁকা
বেদনার "ভাস্কর্য " ।নরকের ঠিকানা লেখা থাকে বুকফাটা
আর্তনাদে ,মহাশূন্যে আঁচড় কাটে মৃত্যুর প্রত্যাশা।


Social Plugin