পাহাড়ের কান্না
সুজিত অধিকারী
পাহাড়ের সাথে নদীর সম্পর্ক টা অনেক দিনের।
পাহাড় সারাক্ষণ মৌন মুখে নদীর গতিবিধি লক্ষ রাখে
আর লিখে রাখে ক্ষত বিক্ষত মনের কথা।
একদিন নদী পাহাড় কে বললো ,তুমি বড় নিরস।
একটা জ্বলন্ত কাঠ,তুমি বোঝো না ভালোবাসা,
বোঝো না আমার মনের গভীরতা আমি কি চাই!
সারাক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকো গোমড়া মুখে ।
পাহাড় নদীর কথা শুনে মুচকি হেসে আকাশের
দিকে তাকিয়ে বললো আমার কথা বলতে নেই।
আমি নীরব সাক্ষী কত যুদ্ধের কত সঙ্গমের কিন্তু
আমার সঙ্গম হলো কই তবুও কত উৎপত্তি আমার
থেকে সে কথা কেউ মনে রাখে না.......
কত ঝড় বৃষ্টি কত হিমেল হাওয়া এই বক্ষে ধারন
করে ,সূর্যের প্রখর রৌদ্রে জ্বলতে জ্বলতে খট খটে
হয়ে আছি তবুও মেজাজ হারাই নি।দাবানলের
তীব্র বীভৎসতায় পুড়ে পুড়ে গোটা গায়ে ফোস্কা
পড়েছে দুর্গন্ধে কেউ কাছে আসে নি ,মাঝে মাঝে
নিজের দুঃখ উদগীরণ করি লাভার জন্ম দিয়ে।
লাভার জন্ম দেখলো সবাই আমার আত্ম দহন
কেউ বুঝলো না সবাই জানে আমি স্থির আর জড়ো।
নদী শুনতে পেলো না পাহাড়ের কথা সে নিজের
গরিমায় মত্ত যৌবনের মধ্যাহ্নে ভাস্বর ,উন্মত্ত স্তনে
বস্ত্র হারিয়ে মহা উচ্ছ্বাসে মহাসাগরে অবগাহন ।
ঘাম ঝরানো আলিঙ্গনে আনন্দিত হয়ে নদী
কামনার পুলক উপভোগ করে গর্ভকষে গর্ভ রচনা করে নুড়ি
পাথরের "ভ্রূণ", পাহাড় কে আড়াল করে .......
ক্লান্ত পাহাড় অপমানে ,ব্যথায় ,লজ্জায় মাথা নত করে
আড় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে সেই
গোপন দৃশ্যের প্রেক্ষাপট প্রকৃতির প্রেক্ষাগৃহে ...…..।
অভিমানে অনুরাগে পাহাড় আরো কঠিন - কঠোর
হয়ে তরল কুয়াশায় অন্ধকার এঁকে দিলো সারা
আকাশ জুড়ে ..........,অদৃশ্য নক্ষত্রের আলো
পাহাড়ের বুকে ,সেখানে লেখা আছে পাহাড়ের
জীবন বিকাশের গল্প আর নদীর সৌন্দর্য - লীলা।
একদিন চৈত্রের তীব্র দাবদহে নদী তার রূপ লাবণ্য
হারিয়ে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে
পাহাড়ের দিকে করুণ চোখে ভিক্ষুকের মত
তাকিয়ে রইলো........।
একটা প্রজাপতি নদীর জল থেকে উড়ে এসে
ধ্যানমগ্ন পাহাড়ের কানে কানে বলে গেলো মৃদু
সুরে "ভালোবাসে সে ........,তোমার হৃৎপিন্ডে নদীর
স্পন্দন বোঝনি কি সে কথা ,চেয়ে দেখো অবিচল
ধৈর্যে জেগে আছে দীর্ঘ রাত্রি ,বেঁচে থাকার ইচ্ছায়,
ক্ষুধায় তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে মরে সে তোমার শূন্যতায়।
ধ্যানমগ্ন পাহাড়ের চক্ষু উন্মোচিত হয় ।
মত্ত মাতঙ্গের উল্লাসে হঠাৎ নভোমণ্ডলে হাজার রংমশাল ...
উল্কার ছটা। নীল ধোঁয়ায় পিঙ্গল মেঘের প্রসার.
.মুহুর্মুহু বজ্র নির্ঘোষ, তরঙ্গ-সংঘাত ।
অচল অদ্রি সেই সংঘাত পুষ্প মাল্য হেন বক্ষে ধারণ করে ।
নীরব আর্তনাদে তপ্ত ধরিত্রীর বুকে চোখের জলে সৃষ্টি করে ঝর্ণা ।
শ্রাবণের চুম্বনে, চন্দন বর্ণা ঝর্ণার জলে গা ভিজিয়ে
পাহাড়ের বহু আকাঙ্ক্ষিত আলিঙ্গনে নদী হয়ে ওঠে পুনর্যৌবনা ।
গোধূলির জলস্রোতে সূর্য এঁকে দিলো এক
উজ্জ্বল আলোর রক্তিম রশ্মি ,নদী নতুন করে
গর্ভবতী হয়ে জন্ম দিলো প্রেমের উপাখ্যান।
দুরে সমুদ্রের অবসন্ন মন আর শরীরের ক্লান্তির
দীর্ঘনিশ্বাস দুঃস্বপ্নের মতো।"পাহাড়ের কান্না "
সুজিত অধিকারী
পাহাড়ের সাথে নদীর সম্পর্ক টা অনেক দিনের।
পাহাড় সারাক্ষণ মৌন মুখে নদীর গতিবিধি লক্ষ রাখে
আর লিখে রাখে ক্ষত বিক্ষত মনের কথা।
একদিন নদী পাহাড় কে বললো ,তুমি বড় নিরস।
একটা জ্বলন্ত কাঠ,তুমি বোঝো না ভালোবাসা,
বোঝো না আমার মনের গভীরতা আমি কি চাই!
সারাক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকো গোমড়া মুখে ।
পাহাড় নদীর কথা শুনে মুচকি হেসে আকাশের
দিকে তাকিয়ে বললো আমার কথা বলতে নেই।
আমি নীরব সাক্ষী কত যুদ্ধের কত সঙ্গমের কিন্তু
আমার সঙ্গম হলো কই তবুও কত উৎপত্তি আমার
থেকে সে কথা কেউ মনে রাখে না.......
কত ঝড় বৃষ্টি কত হিমেল হাওয়া এই বক্ষে ধারন
করে ,সূর্যের প্রখর রৌদ্রে জ্বলতে জ্বলতে খট খটে
হয়ে আছি তবুও মেজাজ হারাই নি।দাবানলের
তীব্র বীভৎসতায় পুড়ে পুড়ে গোটা গায়ে ফোস্কা
পড়েছে দুর্গন্ধে কেউ কাছে আসে নি ,মাঝে মাঝে
নিজের দুঃখ উদগীরণ করি লাভার জন্ম দিয়ে।
লাভার জন্ম দেখলো সবাই আমার আত্ম দহন
কেউ বুঝলো না সবাই জানে আমি স্থির আর জড়ো।
নদী শুনতে পেলো না পাহাড়ের কথা সে নিজের
গরিমায় মত্ত যৌবনের মধ্যাহ্নে ভাস্বর ,উন্মত্ত স্তনে
বস্ত্র হারিয়ে মহা উচ্ছ্বাসে মহাসাগরে অবগাহন ।
ঘাম ঝরানো আলিঙ্গনে আনন্দিত হয়ে নদী
কামনার পুলক উপভোগ করে গর্ভকষে গর্ভ রচনা করে নুড়ি
পাথরের "ভ্রূণ", পাহাড় কে আড়াল করে .......
ক্লান্ত পাহাড় অপমানে ,ব্যথায় ,লজ্জায় মাথা নত করে
আড় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে সেই
গোপন দৃশ্যের প্রেক্ষাপট প্রকৃতির প্রেক্ষাগৃহে ...…..।
অভিমানে অনুরাগে পাহাড় আরো কঠিন - কঠোর
হয়ে তরল কুয়াশায় অন্ধকার এঁকে দিলো সারা
আকাশ জুড়ে ..........,অদৃশ্য নক্ষত্রের আলো
পাহাড়ের বুকে ,সেখানে লেখা আছে পাহাড়ের
জীবন বিকাশের গল্প আর নদীর সৌন্দর্য - লীলা।
একদিন চৈত্রের তীব্র দাবদহে নদী তার রূপ লাবণ্য
হারিয়ে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে
পাহাড়ের দিকে করুণ চোখে ভিক্ষুকের মত
তাকিয়ে রইলো........।
একটা প্রজাপতি নদীর জল থেকে উড়ে এসে
ধ্যানমগ্ন পাহাড়ের কানে কানে বলে গেলো মৃদু
সুরে "ভালোবাসে সে ........,তোমার হৃৎপিন্ডে নদীর
স্পন্দন বোঝনি কি সে কথা ,চেয়ে দেখো অবিচল
ধৈর্যে জেগে আছে দীর্ঘ রাত্রি ,বেঁচে থাকার ইচ্ছায়,
ক্ষুধায় তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে মরে সে তোমার শূন্যতায়।
ধ্যানমগ্ন পাহাড়ের চক্ষু উন্মোচিত হয় ।
মত্ত মাতঙ্গের উল্লাসে হঠাৎ নভোমণ্ডলে হাজার রংমশাল ...
উল্কার ছটা। নীল ধোঁয়ায় পিঙ্গল মেঘের প্রসার.
.মুহুর্মুহু বজ্র নির্ঘোষ, তরঙ্গ-সংঘাত ।
অচল অদ্রি সেই সংঘাত পুষ্প মাল্য হেন বক্ষে ধারণ করে ।
নীরব আর্তনাদে তপ্ত ধরিত্রীর বুকে চোখের জলে সৃষ্টি করে ঝর্ণা ।
শ্রাবণের চুম্বনে, চন্দন বর্ণা ঝর্ণার জলে গা ভিজিয়ে
পাহাড়ের বহু আকাঙ্ক্ষিত আলিঙ্গনে নদী হয়ে ওঠে পুনর্যৌবনা ।
গোধূলির জলস্রোতে সূর্য এঁকে দিলো এক
উজ্জ্বল আলোর রক্তিম রশ্মি ,নদী নতুন করে
গর্ভবতী হয়ে জন্ম দিলো প্রেমের উপাখ্যান।
দুরে সমুদ্রের অবসন্ন মন আর শরীরের ক্লান্তির
দীর্ঘনিশ্বাস দুঃস্বপ্নের মতো।
পাহাড়ের সাথে নদীর সম্পর্ক টা অনেক দিনের।
পাহাড় সারাক্ষণ মৌন মুখে নদীর গতিবিধি লক্ষ রাখে
আর লিখে রাখে ক্ষত বিক্ষত মনের কথা।
একদিন নদী পাহাড় কে বললো ,তুমি বড় নিরস।
একটা জ্বলন্ত কাঠ,তুমি বোঝো না ভালোবাসা,
বোঝো না আমার মনের গভীরতা আমি কি চাই!
সারাক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকো গোমড়া মুখে ।
পাহাড় নদীর কথা শুনে মুচকি হেসে আকাশের
দিকে তাকিয়ে বললো আমার কথা বলতে নেই।
আমি নীরব সাক্ষী কত যুদ্ধের কত সঙ্গমের কিন্তু
আমার সঙ্গম হলো কই তবুও কত উৎপত্তি আমার
থেকে সে কথা কেউ মনে রাখে না.......
কত ঝড় বৃষ্টি কত হিমেল হাওয়া এই বক্ষে ধারন
করে ,সূর্যের প্রখর রৌদ্রে জ্বলতে জ্বলতে খট খটে
হয়ে আছি তবুও মেজাজ হারাই নি।দাবানলের
তীব্র বীভৎসতায় পুড়ে পুড়ে গোটা গায়ে ফোস্কা
পড়েছে দুর্গন্ধে কেউ কাছে আসে নি ,মাঝে মাঝে
নিজের দুঃখ উদগীরণ করি লাভার জন্ম দিয়ে।
লাভার জন্ম দেখলো সবাই আমার আত্ম দহন
কেউ বুঝলো না সবাই জানে আমি স্থির আর জড়ো।
নদী শুনতে পেলো না পাহাড়ের কথা সে নিজের
গরিমায় মত্ত যৌবনের মধ্যাহ্নে ভাস্বর ,উন্মত্ত স্তনে
বস্ত্র হারিয়ে মহা উচ্ছ্বাসে মহাসাগরে অবগাহন ।
ঘাম ঝরানো আলিঙ্গনে আনন্দিত হয়ে নদী
কামনার পুলক উপভোগ করে গর্ভকষে গর্ভ রচনা করে নুড়ি
পাথরের "ভ্রূণ", পাহাড় কে আড়াল করে .......
ক্লান্ত পাহাড় অপমানে ,ব্যথায় ,লজ্জায় মাথা নত করে
আড় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে সেই
গোপন দৃশ্যের প্রেক্ষাপট প্রকৃতির প্রেক্ষাগৃহে ...…..।
অভিমানে অনুরাগে পাহাড় আরো কঠিন - কঠোর
হয়ে তরল কুয়াশায় অন্ধকার এঁকে দিলো সারা
আকাশ জুড়ে ..........,অদৃশ্য নক্ষত্রের আলো
পাহাড়ের বুকে ,সেখানে লেখা আছে পাহাড়ের
জীবন বিকাশের গল্প আর নদীর সৌন্দর্য - লীলা।
একদিন চৈত্রের তীব্র দাবদহে নদী তার রূপ লাবণ্য
হারিয়ে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে
পাহাড়ের দিকে করুণ চোখে ভিক্ষুকের মত
তাকিয়ে রইলো........।
একটা প্রজাপতি নদীর জল থেকে উড়ে এসে
ধ্যানমগ্ন পাহাড়ের কানে কানে বলে গেলো মৃদু
সুরে "ভালোবাসে সে ........,তোমার হৃৎপিন্ডে নদীর
স্পন্দন বোঝনি কি সে কথা ,চেয়ে দেখো অবিচল
ধৈর্যে জেগে আছে দীর্ঘ রাত্রি ,বেঁচে থাকার ইচ্ছায়,
ক্ষুধায় তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে মরে সে তোমার শূন্যতায়।
ধ্যানমগ্ন পাহাড়ের চক্ষু উন্মোচিত হয় ।
মত্ত মাতঙ্গের উল্লাসে হঠাৎ নভোমণ্ডলে হাজার রংমশাল ...
উল্কার ছটা। নীল ধোঁয়ায় পিঙ্গল মেঘের প্রসার.
.মুহুর্মুহু বজ্র নির্ঘোষ, তরঙ্গ-সংঘাত ।
অচল অদ্রি সেই সংঘাত পুষ্প মাল্য হেন বক্ষে ধারণ করে ।
নীরব আর্তনাদে তপ্ত ধরিত্রীর বুকে চোখের জলে সৃষ্টি করে ঝর্ণা ।
শ্রাবণের চুম্বনে, চন্দন বর্ণা ঝর্ণার জলে গা ভিজিয়ে
পাহাড়ের বহু আকাঙ্ক্ষিত আলিঙ্গনে নদী হয়ে ওঠে পুনর্যৌবনা ।
গোধূলির জলস্রোতে সূর্য এঁকে দিলো এক
উজ্জ্বল আলোর রক্তিম রশ্মি ,নদী নতুন করে
গর্ভবতী হয়ে জন্ম দিলো প্রেমের উপাখ্যান।
দুরে সমুদ্রের অবসন্ন মন আর শরীরের ক্লান্তির
দীর্ঘনিশ্বাস দুঃস্বপ্নের মতো।


Social Plugin