শকুন্তলা - মধুবনী চ্যাটার্জী | Sakuntala by Madhubani Chatterjee

 


"শকুন্তলা"
মধুবনী চ্যাটার্জী 

মহাভারতের ধূসর অলিন্দে ঘুরতে ঘুরতে বারে বারে দেখা হয়ে যায় নিজের সঙ্গে, দেখা হয় আমার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা খুব চেনা, অথবা অচেনা চরিত্র দের সঙ্গে যারা অন্য নামে অন্য পরিচয়ে এক ই ঘটনায় এক ই অভিজ্ঞতায় এখন ও বেঁচে আছে।
সময়ের হাত ধরে,যুগের নিয়মে ভুর্জ পত্রের অস্পষ্ট লিপি ধীরে ধীরে ছাপার অক্ষরে গাঢ় হলো বটে কিন্তু গল্প গুলো এক ই রয়ে গেল। তাকে শুধু নবীন যুগের আবরন পরানো হলো মাত্র। নতুন নামে ডাকা হলো নতুন পরিচয় দেওয়া হলো কিন্তু গল্প পাল্টে দেওয়া গেল না! শকুন্তলা র গল্প ও এমন ই এক গল্প,একা মায়ের গল্প।
মহা ভারতের শকুন্তলা তীব্র, কালিদাসের শকুন্তলা কাব্যিক। ক্ষনিকের মোহের ফসল গর্ভে লালন করার স্পর্ধা কয়জন নারী, সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে, দেখাতে পেরেছে! শকুন্তলা পেরেছিলেন।
গান্ধর্ব মতের বিবাহ বড়ো বিচিত্র। শুধু দুটো হৃদয়ের আদান প্রদান ঈশ্বর কে সাক্ষী রেখে হয়, যিনি প্রয়োজন এ মুখর হবেন না।তাই এই বিবাহ যে কোন মুহুর্তে অস্বীকার করা যায়।যা দুষ্মন্ত করে ছিলেন। বিবাহের মন্ত্র যখন সমাজের সামনে পড়া হয়, তখন তা গ্রহণ করা হবে আর আড়ালে হলে তা অনাচার,বলা হয়।তার মানে 
প্রেম, ভালোবাসা, নিবেদন, সত্য রক্ষা,সব ই সমাজবদ্ধ।
মানুষের অন্তরে র যে আদান প্রদান তার সব টুকুই মুল্য হীন।
সমাজ দেখেনি বলে, সেই প্রেম, ভালোবাসা থেকে উৎসারিত প্রাণ,সেও সমাজ বহির্ভূত!আজ ও সমাজ পিতৃপরিচয় কে অগ্রাধিকার দেয় অথচ প্রকৃতির সৃষ্টির কোনো ও পিতৃপরিচয় রাখে না। নিজের হিরণ্য গর্ভে জগৎ কে ধারণ করে, প্রসব করে, লালন করে আর প্রয়োজন এ
ধ্বংস ও করে। মাতৃত্ব হলো সেই প্রকৃতির প্রতিভু।
সন্তান কে জগতে আনার এই অপূর্ব পূণ্য মায়ের হাত ধরে।
মহাভারতের শকুন্তলা এক জ্বলন্ত উত্তর ছুঁড়ে দিয়েছেন 
রাজা দুষ্মন্ত এর সামনে ...... মহা রাজ ,ভরতের মাতা ও আমি পিতা ও আমি। আপনার মতো মেরুদন্ড হীন পিতার কোন প্রয়োজন নেই তার .....।
শকুন্তলা র পুত্র সর্ব দমন "ভরত"নামে সসগরা ধরণীর অধীশ্বর হন।