চিত্রঙ্গদা - Chitrangada

 


চিত্রাঙ্গদা 
মধুবনী চ্যাটার্জী 

সমাজে আজ ও বিচিত্র ভাবে নারীত্বের প্রথম শর্ত তাহার বাহির এবং অন্তরের পেলব রূপ মাধুর্য। কন্যা জন্ম সৌকুমার্জের হাত ধরে লালিত হয় 
যে‌ কন্যা পিতা মাতার কাছে শুধু মাত্র সন্তান পরিচয়ে লালিত হয় কন্যা হয়ে ওঠার দায়মুক্ত হয়ে, তাকে সমাজ পুরুষ স্বভাবা নারী র আখ্যা দেয়।

মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা কে আমরা মুক্ত নারী হিসেবে পাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মুক্ত নারী কে বীর যোদ্ধা য়
অভিষিক্ত করেন।যে নারী বাইরের এক বৃহৎ সংসার নামক জগত কে রক্ষা করার পরতিপালন করার দায় নিয়ে জীবন যুদ্ধ প্রবল গতিতে এগিয়ে চলে সে নারী নিজের অজান্তেই অভেদ বর্ম পরে নেয় চিত্রাঙ্গদা আসলে রূপের উর্ধ্বে অরূপ কে ফিরে পাওয়া র এক গল্প যার সবটুকু ই এক নারীর দুই ভিন্ন সত্তার অপূর্ব বিদ্রোহের আলোয় বোনা।
নারী শুধু দেহের ললিত লোভন লীলা নয়, যাকে অধিকার এবং মান্যতা দিয়ে পুরুষ ধন্য করবে। আমি সেই মান্যতা কে লজ্জা বলে জানি .........

হে পুরুষ, আমি সেই নারী যার চোখ নিশ্ছিদ্র অন্ধকার এ শ্বাপদের মতো জ্বলে উঠে শত্রুর নিশানা চিনে নেয়।
আমি সেই নারী যে নিজেকে চিনে নিতে দ্বিধা করে না। জীবনের বুকে সদর্পে গেঁথে দেয় নিজের জয়ধবজা।
হে পুরুষ চিনে নাও আমায়।চিনে নাও তোমার সহযোদ্ধা কে জীবন যুদ্ধে যে তোমার পাশে পাশে ছুটে যেতে চায় 
মহা কালের নিকষ কালো অশ্ব স ওয়ার হয়ে।
মহা ভারতের চিত্রাঙ্গদা মহাকাব্যের ভূর্জপত্রে শুধু মাত্র বভ্রূবাহনের মা হয়ে মিলিয়ে রৈলেন,আর কবিগুরুর চিত্রাঙ্গদা সময়ের 
বুকে দুর্বিনীত স্পর্ধা হয়ে আজ ও জেগে আছেন তাঁর আগুন ডানা র অসংখ্য স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে।