শ্রাবণ - শ্বেতা চক্রবর্তী | Sraban



 শ্রাবণ

 শ্বেতা চক্রবর্তী


মনে করো সেই শ্রাবণ রাত্রিতে আমিও তোমার সঙ্গে ছিলাম একটি নৌকায়.. 

তুমি মাঝি,অন্যকে তুলবেই..

আমি কিছুতেই তুলতে দেব না,

একা থাকা আমার স্বভাব,বড়জোর দোকা..

আমি কবি,মনে রেখো কবি শাপ দিলে পৃথিবী ধ্বংস  হতে পারে..!

তারপর নিঃশব্দে নৌকা চললো..

নিকষ অন্ধকারে আমরা দুটি চুপ..

সব গান,সব কাব্য একমাত্র ধারণের ক্ষমতা রাখে এই অন্ধকার..

পৃথিবী যে কতটা প্রাচীন,তুমি হাড়ে হাড়ে বুঝছিলে..

নধর বৌয়ের কোল চিরদিন গর্তের সমান,ওখানে চাঁদ পড়ে,তুমি পড়ো না..

তুমি জানতে,মপাসাঁর শেষ জীবনে নারী আর সিফিলিসে পার্থক্য ছিল না..

কোনো ভাটিয়ালি,ভাওয়াইয়া একজন আবেগী নারীর সামনে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না..!

অনেকক্ষণ চলবার পর ক্ষীণ চাঁদ দেখা গেল ক্ষণবাদী পুরুষের মতো..

নিস্তব্ধতা ভেদ করে একটি আর্তকণ্ঠ কানে এলো..

একটি ছায়া আরেকটি ছায়াকে টেনে ফেলছে জলে..

নারীকণ্ঠের করুণ নাদ,"ছেড়ে দাও,ছেড়ে দাও,ওগো,আমি সাঁতার জানি না..!"

চঞ্চল তুমি জানো,মাঝি মানেই তারণকারি,

তুমি জানতে,এইবার রাজি হবো আমি..!

তুমি জানতে না,শপথের দাম কখনো কখনো মানবিকতার চেয়ে অধিক কুসুম..

আমার চোখে বীণাপাণি-রোদ..

আমি রাতের কোটরে ঢুকে ভোরকে অবজ্ঞা করে থাকি..!

সেই রাত অতিদীর্ঘ ছিল..

এক একটি রাত অকারণ দীর্ঘজীবী হয় স্বল্পজীবী প্রেমের মূল্যে..

আমরা ভোর ভোর ওপারে উঠলাম..

সেই ছায়া হয়তো তখন তলিয়ে গিয়েছে..

আমি সাঁতার জানতাম..সে নারী জানতো না..

এখন রাত বাড়লেই বুকে ঘা দেয় একটি স্বর,"আমি যে সাঁতার জানি না..!"

রাগ হয়,ও কেন সাঁতার জানতো না?

প্রেমে যে সাঁতার জানতে হয়..!

ডুবতে ডুবতে ভেসে ওঠা,ভাসতে ভাসতে ডুবে যাওয়া,সেই প্রেম..

নিষ্ঠুর,আত্মপীড়নময় আত্মার মতোন এই প্রেম..

অন্ধকারের ভেতর সেঁধিয়ে যাওয়া একটি অপদার্থ,চটুল,অসহায় বালিকার মতো এই প্রেম!

এই যাযাবর,যেন রাঢ়ভূমির নৌকা!

আহত দামোদর,জলবেড়ানো ঘূর্ণি আর একটি আর্তস্বর,এই প্রেম..!

আমি যে সাঁতার জানি না..!

নিশীথের ওটুকুই মন্দগতি  প্রেম..!