" অর্বাচীন !!! " সুজিত অধিকারী | Arbachin


" অর্বাচীন !!! "

               সুজিত অধিকারী 


আমার অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু-

লিখতে পারছি না রাষ্ট্রের অপমান হবে বলে।


রাষ্ট্রের অপমান হলে কার কি ??

মহামতি ভীষ্মও চুপ ছিলেন দ্রৌপদীর বস্ত্র 

হরণের সময়,কৃপাচার্য কৃপা করেন নি।

আর জন্মান্ধ ধৃতরাষ্ট্র ; মনে অন্ধ ছিলেন না তিনিও ক্ষীন স্বরে বলেছিলেন,' এ অন্যায়। '

কিন্তু কোন জোরালো প্রতিবাদ করেন নি। 


ইচ্ছে করলেই তিনি দুর্যোধনের টুটি চেপে ধরতেই পারতেন। তাঁর মুষ্ঠিবদ্ধ লৌহ কঠিন  হাতে 

দুঃশাসনের বুকের পাঁজর ভেঙে দিতে পারতেন।


কিন্তু তিনি তা করেন নি। বরং মনে মনে লালসার জিহ্বা বের করে বলেছিলেন ,"কার জয় হলো ?"

শুধু লোক দেখানো আস্ফালন করেছিলেন মাত্র।


আমার অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু,

পারছি কোথায় ??কারণ নারীর অপমান হবে বলে।


অন্ধ সেজে নিজের দোষ কে আড়ালে রাখতে  চেয়েছেন কৌরব মাতা গান্ধারী, সবার কাছে ভালো ভালো থাকার জন্য ,লোকে বলবে ওনার তো চোখ বাঁধা।


কিন্তু না, ওনার অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে সব দেখেছেন।

দুর্যোধনের চরম উন্মাদ উচ্ছৃঙ্খলতা ,দুঃশাসনের অন্যায় ভ্রাতৃ-প্রেম !!  

দ্রৌপদীর সম্ভ্রম হারানোর তীব্র আর্তনাদ শুনতে  পেয়েও এগিয়ে আসেন নি।

পুত্র স্নেহে নিঃশ্চুপ থেকেছেন কৌশলে।


শুধু লোক দেখানো মায়া কান্না কেঁদেছেন।ওঁর ব্যক্তিত্ব সুলভ প্রতিবাদের শাসন সন্তানকে ন্যায়ের পাঠ দেয়নি। 

ইচ্ছে করলেই তিনি বস্ত্র হরণ রোধ করতে পারতেন ।


লালসার আগুনে ডুব দিয়ে সাঁতার কেটেছেন দুঃশাসন,

বেচারা কর্ণ কর্তব্যের খাতিরে বেমানান। পৌরুষ 

বন্ধক দিয়ে তিনি অঙ্গ রাজ !!


কুরুবৃদ্ধগণ নাকি বড় বড় শাসক শিক্ষাগুরু যোদ্ধা রথি মহারথী !!

তাঁরাও চুপ !! দ্রৌপদীর  অন্তর্বাস দেখার জন্য ।


দ্রোণ-কৃপ !! তাঁরাও আচার্য !!!


সময় পরিবর্তন হয় শুধু, শাসন যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষণ নতুন কিছু নয়। অশ্বত্থামারা নির্দোষ থেকে যায় যুগে যুগে। তাদের কপালে যে মানিক জ্বলে --


দুর্যোধনের লুব্ধদৃষ্টি যাজ্ঞসেনীর তলপেট,শকুনির

 পৈশাচিক হাসি কুরুবংশের ধ্বংসের সূচনা ।


আমার অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু 

পারছি কোথায় ??


সেদিন দ্যূতক্রীড়া সভায় দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ হয়নি।  বস্ত্র হরণ হয়েছিল ভারতবর্ষের সমস্ত নারী জাতির ।

আগুন জ্বলেছিলো হস্তিনাপুরের নগরে প্রান্তরে--

সেই আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রেহাই পাননি,

শত পুত্রের পিতা মাতা।

না যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে এখনও তাঁরা মুক্তি পাননি সন্তান শোক থেকে।সেদিনের ধৃতরাষ্ট্র-গান্ধারীর 

আজও নিস্তার নেই।


আকাশে বাতাসে   প্রতিবাদ আজ প্রাণবায়ু । 

যা কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে, তা লেখা না হলেও পৃথিবীর আবর্তন এর মতো ধ্রুব সত্য।

আর সত্য কী কখনো চাপা থাকে? 

মহাভারতের বস্ত্র হরণ পর্বেই রচিত হয়েছিল 

আগামীর ভবিষ্যত।

হায় দুর্যোধন !! অর্বাচীন !!

জানলোই না ঘুঁটি কে সাজালো ?


"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভাৰত৷

অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্৷৷

পৰিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশয় চ দুষ্কৃতাং।

ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥"