কোলাজ
একটা দমকা বাতাস। ঝন ঝন করে খসে পড়ল দেওয়ালে টাঙানো একটা আর্টের ছবি।টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো কাঁচ চারিধারে।
দৌড়ে এলাম ছবিটা বাঁচাবো বলে।
কাঁচের টুকরো গুলো তুলতে গিয়ে দেখি তাতে টুকরো টুকরো কিছু ছবির কোলাজ। হয়তো অবাস্তব মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই বাস্তব। একটা অল্প বয়সের মেয়ে যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত। অদূরেই কাছের সহপাঠীর নির্মম মুখ....আর একটা কাচের টুকরো সরাতেই দেখি মেয়েটিকে জোর করে বিবস্ত্র করা হচ্ছে। হাত পা ছিঁড়ে খুন করা হলো।
তারপরেও সম্পূর্ণ হলো না ছবির কোলাজ। মৃত শরীরের উপর চলল পৈশাচিক উল্লাস।
আদিম রিপু শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল কয়েকজন তাদের আদিম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করতে।মৃত শরীরের উপর সে কি উল্লাস !!
শতাধিক কামড়।
খুন খুন নির্মমভাবে খুন করা হলো।
ছবিটা এবার সম্পূর্ণ হয়েছে।
কাচ সরাতে গিয়ে হাতে কাঁচ ঢুকে গেল। গড়িয়ে পরল তাজা রক্ত মাটিতে। হাতে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। কিন্তু যন্ত্রনা ভুলে গেলাম। আমার রক্ত স্রোত মিশে গেল ওই মেয়েটির ছিন্নভিন্ন শরীরে।
উফ্, কী ভীষণ যন্ত্রণা সেদিন পেয়েছিল মেয়েটি। কী বীভৎস যন্ত্রণা !! দুটো চোখ দিয়ে ছিটকে রক্ত ধারা।
ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত গোলাপ।
তাকে পদদলিত করে চলে গেল ওরা।
না,হায়না ওদের চেয়ে কম হিংস্র, ওদের চেয়ে কম লোভী।
কী নির্মম,
কী বীভৎস ছবিটা.....
মেয়েটা আমার বোন তোমার বোন তোমাদের মেয়ে আমাদের মেয়ে আমাদের ঘরে কোন ভাইয়ের দিদি কোন প্রেমিকের প্রেমিকা সবচেয়ে বড় কথা সে আমাদেরই একজন।
একদল পশুর হাতে সে নিহত হয়েছে। নির্মমভাবে চক্রান্ত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মেয়েটি অপরাধ করেছিল সত্য দর্শন করে। সে জেনে গিয়েছিল টাকার জন্য কত অপরাধ করা যায়? টাকায় বিক্রি হয়, রক্ত মাংস দেহ শিরদাঁড়া আরো অনেক কিছু। মানবিকতা !
ছোঃ , নীতি-মানবিকতায় বাঁধা দৈন্য। আর দৈন্য চায় কে ??
তাই তাকে খুন হতে হলো।
যেতে যেতে সে বুঝতে পেরেছিল পৃথিবীতে টাকাই আসল। টাকায় শুকিয়ে যায় চোখের জল। টাকায় চাপা পড়ে বিচার ব্যবস্থা। টাকায় মিথ্যা সত্যে পরিণত হয়।
সত্য মিথ্যায় পরিণত হতে বেশিক্ষণ লাগে না।
শুধু থেকে যায় অসহ্য নির্মম যন্ত্রণা পেয়ে খুন হয়ে যাওয়া মেয়েটির হাহাকার। সে এখনো অপেক্ষা করছে ন্যায় বিচারের।
কিন্তু বিচার মেলেনি এখনও।
হয়তো টাকার নিচে চাপা পড়ে গেছে বিচার।
কলমে কৃষ্ণা সেন।

Social Plugin